TECHNOLOGY

কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের র‍্যামের বিস্তারিত জেনে নিন |

RAM বা Random-Access-Memory (র‍্যান্ডম এক্সেস মেমোরী) এটি কম্পিউটার এবং স্মার্টফোন এর ক্ষেত্রে একটি অতি প্রয়োজনিয় হার্ডওয়্যার যেটা ছাড়া কম্পিউটার এবং স্মার্টফোন স্বয়ং সম্পূর্ন হয় না, বা ব্যাবহার উপোযোগি হয় না  । এর কাজ হল নির্দিষ্ঠ কিছু সময়ের জন্য ডিভাইজ টির চলমান কাজের তথ্যকে মনে রাখা বা নির্দিস্ট সময়ের জন্য স্টোর করা। যেনো প্রোসেসর কে বারবার একই তথ্য প্রক্রিয়া করন করতে না হয়। মানুষের ভেতর এই RAM নিয়ে অনেক ভুল ধারনা কাজ করে। আর তাই র‌্যাম নিয়ে একটি পরিস্কার ধারনা দিতেই আজকের এই লেখা ।

আসলে কি পরিমান র‌্যাম আপনার প্রোয়জনঃ

আপনি যদি ৩২ বিট উইন্ডোজ ইউজার হন, তাহলে আপনি ৪ জিবি র‍্যাম পর্যন্তই ব্যাবহার করতে পারবেন কারন ৩২ বিট উইন্ডোজ ৪ জিবি র‌্যামের বেশি সাপোর্ট করে না, এমন কি আপনি ৮ বা ১৬ জিবি র‌্যাম লাগিয়েও কোনো লাভ নাই । অথ্যাৎ আপনি ৮ জিবি বা ১৬ জিবি লাগালেও ৪ জিবিরই পারর্ফমেন্স পাবেন। আর ভিসতা ৬৪ বিট ৮ জিবি,উইন্ডোজ ৭ আলটিমেট ৬৪ বিট ১৯২ জিবি, উইন্ডোজ ১০ ৬৪ বিট হোম ১২৮ জিবি এবং এন্টারপ্রাইজ, এডুকেশন ও প্রো ২ টিবি পর্যন্ত সাপোর্ট করে   আপরদিকে আমরা যদি এনড্রয়েড ফোনের দিকে তাকাই তাহলে দেখব ওয়ানপ্লাস ৫ এ ৮ জিবি র‍্যাম। তবে  প্রশ্ন হলো আসলেই কি আপনার জন্য এত র‍্যাম দরকার?

অনেক সময় ডিভাইস কেনার সময় বা র‍্যাম পরিবর্তনের সময় কতিপয় কত গুলি সফটওয়্যার বা গেমস এর কথা মাথায় রেখে আমরা আপগ্রেড করি বা কিনে থাকি। আমরা ভাবি এই সফটওয়্যার বা এই গেমস এর জন্য ৪ জিবি বা ৮ জিবি, স্মার্টফোন এর ক্ষেত্রে ২ জিবি এ রকম র‍্যাম পর্যাপ্ত। হ্যা সেই সফটওয়্যার বা গেমস চালানোর জন্য র‍্যাম পর্যাপ্ত ঠিকই, তবে ওই সফটওয়্যার বা গেমস চালানো ছারাও র‌্যামের আরও কাজে থাকে ।

আপনার কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন কার্জ সম্পাদন করতেও র‌্যামের প্রয়োজন পরে এমন কি অনেক সময় আপনার মাদার বোর্ডে বিল্টইন এ জি পি থাকলে মূল র‌্যাম থেকেই ভি-র‌্যাম শেয়ার করে সুতরাং কোন নির্দিস্ট গেম বা সফটওয়্যার কথা মাথায় রেখে ডিভাইজ কিনলে বা আপগ্রেড করলে আবশ্যই ওই সফটওয়্যার বা গেমসের জন্য যে পরিমান র‌্যাম লাগবে তার থেকে ২/৪ জিবি বেশি ক্ষমতার র‍্যাম কিনুন। তা না করলে আপনার ডিভাইজ টি অবশ্যই স্লো হয়ে যাবে ।

র‍্যাম এর সাইজ ও ফ্রিকুয়েন্সিঃ

আমরা বেশিরভাগ কম্পিউটার বা স্মার্টফোন  ব্যবহারকারী জানি যে আমাদের কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে কতটুকু র‌্যাম আছে, কিন্তু যখন আমাদের কোন বন্ধু বা আত্মীয় স্বজন আমাদের কে বলে আমার ফোনে এত জিবি র‍্যাম বা আমার কম্পিউটারে এত জিবি র‍্যাম অর্থাত আমাদের থেকে বেশি; তখন আমরা ভেবে নেই যে তার সিস্টেম আমাদের সিস্টেম থেকে ফাস্টার। হ্যা এটা ভাবাটাই স্বাভাবিক।তবে সব সময় র‍্যামের ক্যাপাসিটি বা সাইজ সবকিছু নির্দেশ করে না।

র‍্যাম এর পার্ফমেন্স বা কার্য ক্ষমতা যাচাই করার জন্য অনেক গুলো আলাদা বিষয়াবলী রয়েছে। র‍্যাম স্পীড বা ফ্রিকুয়েন্সী এর মধ্যে একটি। একই স্টোরেজ এর ভিন্ন ভিন্ন ফ্রিকুয়েন্সী বা স্পীডের দুটি র‍্যাম এর পার্ফমেন্স অনেক ভালো-খারাপ পার্থক্য থাকতে পারে। একইভাবে একজন কম্পিউটার ইউজার ৮ জিবি র‍্যাম ও ১৬ জিবি র‍্যাম ব্যবহার কালে তেমন কোনো পার্থক্য কিন্তু খুঁজে পাবেন না। কেবল মাত্র হাই এন্ড কাজের বেলাতে যেমনঃ গেমিং, ভিডিও এডিটিং ও রেন্ডারিং,থ্রিডি মডেলিং,ভার্চুয়ালাইজেশন,প্রফেশনাল সাউন্ড ও ইমেজ এডিটিং,ডিপ লার্নিংয়ের বেলাতেই পার্থক্যটি খুজে পেতে পারেন।

আপনি যদি একটি ৮ জিবি র‍্যাম এর কম্পিউটার ইউজার হন; তবে ৮ জিবি থেকে ১৬ জিবি তে আপগ্রেড একান্ত প্রয়োজন না হলে করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না । আপনার একই কম্পিউটারে পারফর্মেন্স যদি ভালো চান তবে ৮ জিবি র‍্যাম এর ভালো ফ্রিকুয়েন্সি সংস্করন কিনে ফেলুন, যেটা আপনার মেইনবোর্ডে সাপোর্ট করবে। আসলে মূলত আপনি একজন সাধারন কম্পিউটার ইউজার হলে এটি করতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি একজন  হাই এন্ড কম্পিউটার ইউজার হয়ে থাকেন তবে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী র‌্যাম বাড়াতেই হবে ।

এক এক স্লটে এক এক সাইজের ও ফ্রিকুয়েন্সির র‌্যামঃ

আমরা জানি যে আমাদের সাধারন কাজের কম্পিউটারে র‍্যামের জন্য সাধারনত তিন,চার টা স্লট থাকে আর আমাদের ভেতর অনেকের-ই একটি ভুল ধারনা থাকে যে সেই স্লট গুলোতে কেবল একই সাইজের র‍্যাম লাগাতে হবে। যেমনঃ একটি স্লটে ৮ জিবি লাগানো থাকলে আরেকটি স্লটেও ৮ জিবি লাগাতে হবে। আসলে ব্যাপাটি কিন্তু তা নয়, আপনি বিভিন্ন স্লটে আলাদা আলাদা সাইজের র‍্যাম লাগাতে পারেন।

তবে সাইজ যাই হোক ফ্রিকুয়েন্সিটা মিলিয়েই র‍্যাম লাগানোই ভালো কারন ভিন্ন ভিন্ন ফ্রিকুয়েন্সির র‌্যাম লাগালে ভালো পারফর্মেন্স পাওয়া যায় না, আর আপনার মেইনবোর্ড বা মেশিন যদি ১৩৩৩ বা ১৬০০ ফ্রিকুয়েন্সির হয় আর আপনি র‌্যাম লাগালেন ২১৩৩ ফ্রিকুয়েন্সির, তবে আপনার ডিভাইজটি ১৩৩৩ বা ১৬০০ পর্যন্তই কাজ করবে বাকিটুকু কোনো কাজেই আসবে না শুধু শুধু আপনার পয়সার অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয় । তবে ভিন্ন ভিন্ন স্লটে একই ব্রান্ডের, একই ক্যাপাসিটি,একই ফ্রিকুয়েন্সির র‍্যাম লাগানো থাকলে কাজের সামঞ্জসতা ভালো পাবেন এবং এ কারনে ভিন্ন সাইজের, ভিন্ন ফ্রিকুয়েন্সির র‍্যাম লাগালে যে পারর্ফমেন্স পেতেন তার থেকে অনেক ভালো পারফর্মেন্স পাবেন। তবে হ্যা একটি স্লটে ৪ জিবি থাকলে আরেকটি স্লটে ৮ জিবি লাগাতে পারবেন, কোনো সমস্যা হবে না, এখানে আপনি ডুয়াল চ্যানেল মোড সেট করে, স্মুথ একটা পারফর্মেন্স পাবেন।

র‍্যাম বুস্টার ব্যাবহার করাঃ

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা নিজেদের স্মার্ট ও কম্পিউটার এবং স্মার্টফোন এক্সপার্ট বলে দাবি করেন এবং তারা যথেষ্ট স্মার্টও আর তারা টেকনোলজি সম্পর্কে মোটামুটি ভালো ধারনাও রাখেন কিন্তু আমি বুঝতে পারি না কেনো তারা র‌্যাম বুস্টার বা মেমোরি আপটিমাইজার টাইপের সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন,আসলে এটা আমাদের র‍্যাম সম্পর্কে একটা ভুল ধারনা। আর এই ভুল ধারনার ফলে আমরা  র‍্যাম বুস্টার বা মেমোরি আপটিমাইজার নামক সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করি এবং নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারি।

মনে করেন আপনি আপনার ডিভাইজে বিভিন্ন কাজ করছেন এখন আপনার র‍্যাম ফুল হয়ে থাকবে এটিই সাধারন নিয়ম আবার যখন আপনার কাজ শেষ হয়ে যাবে তখন দেখবেন আপনার র‌্যাম আগের থেকে অনেক ফাঁকা হয়ে গেছে অর্থাৎ আপনার র‍্যাম সঠিক ভাবে কাজ করছে । র‍্যাম তো ফাঁকা থাকার জন্য তৈরি করা হয়নি। আপনার অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার কে তৈরি করা হয ওইভাবে যেনো তা  র‍্যাম জায়গা দখল করে রাখতে পারে।

তাই আপনার সিস্টেমের বিপরীতে যেয়ে ক্লিনার সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন কেনো ? এমনকি এসব ক্লিনার বুস্টার সফটওয়্যার আপনার ডিভাইজকে আরো স্লো করে ফেলছে কেনোনা আপনি সিস্টেমের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রক্রিয়াকরন কেও মুছে ফেলছেন। বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই ? র‍্যাম হার্ড ড্রাইভ এর মত নয়, এর অটো এডজাস্ট সিস্টেম রয়েছে। র‍্যাম এর যদি ৪ জিবি হয়, চলন্ত অবস্থায় এটি ৪ জিবি জায়গাকেই ব্যবহার করে Writing,Erasing,Rewriting করে যাবে। তাই আমার মতে র‍্যাম বুস্টার বা ক্লিনার অ্যাপস বা সফটওয়্যার ব্যবহার না করাই ভালো।

যাবার বেলায়ঃ

র‌্যাম নিয়ে আপনার মনের ভূল ধারনা গুলো আশা করি এখন আর নেই, এখন আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন যে আপনার কতটুকু র‌্যাম প্রয়োজন,তার পরেও র‌্যাম নিয়ে যদি আপনার মনে কোনো প্রকার প্রশ্ন থেকে থাকে তবে কমেন্ট করে জানান আমি যত দ্রুত সম্ভব আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো ,আর হ্যাঁ, আরেকটা কথা ভালো লাগলে পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার কেরতে ভূলবেন না,আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন ।

Leave a Reply