আজকালকার দিনে ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পর্কে জানে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না এমন কি অনেকেই এই ক্লাউড কম্পিউটিং এর কোন না কোন সার্ভিস ব্যাবহার করছেন কিন্তু তিনি নিজেও জানে না যে সে ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিস ব্যাবহার করছে যাই হোক কোন ব্যাপার না, আজ আমরা এই ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে একটা পরিস্কার ধারনা নিয়ে নিব তো চলুন শুরু করা যাক ।

কেন এই ধরনের নাম করন করা হলো ?

এই নাম শুনে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কেনো এর নাম এই রকম রাখা হল? আপনি যদি মেঘ এর কথা ভাবেন অর্থাৎ এর গঠনের কথা তাহলে আমরা জানি যে পানির অণু গুলো একত্রিত হয়ে মেঘ এর সৃষ্টি হয়। এবং এই মেঘ থেকে যখন বৃষ্টি হয় তখন তা চারিদিকে বিস্তৃত হয়ে যায়। বৃষ্টি কিন্তু এক জাইগায় নির্দিষ্ট হয়ে পরে না। এবং একই মেঘ তার অবস্থানের পরিবর্তন করে সব যায়গায় বৃষ্টি বর্ষণ করে থাকে। এখন এই ক্লাউড কম্পিউটার ও অনেকটা মেঘ এর গঠনে তৈরি এবং এর কাজ ও প্রায় একই রকম। দেখুন ক্লাউড কম্পিউটার গুলো হাজার হাজার কম্পিউটার একত্রিত করে বানানো হয়। এবং এটি দুনিয়ার যেখান থেকে ইচ্ছা সেখান থেকে ব্যবহার করা সম্ভব। আপনার টেবিলে পরে থাকা কম্পিউটারটির মতো নয় যে আপনি শুধু একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে একে ব্যবহার করতে পারেন। তো মুটামুটি এই ধারনার উপর ভিত্তি করে এই প্রযুক্তিটিকে ক্লাউড কম্পিউটিং নামকরন দেওয়া হয়েছে। এবার চলুন একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে ক্লাউড কম্পিউটিং এর বিষয়টা পরিপূর্ণ ভাবে পরিষ্কার করার চেষ্টা করা যাক।

কিছু প্রয়োজনীয় আর্টিকেলঃ

1. বিটকয়েন কি, কেন, কিভাবে? জেনে নিন বিটকয়েন… 2.ইনক্রিপশন (Encryption) কি? ইনক্রিপশন কীভা… 3. কখনও ভেবেছে কেন আপনার ফোনটি এত গরম হচ্ছে ?

ক্লাউড কম্পিউটিং এর বাস্তব উদাহরনঃ

মনে করুন আপনার ঘরে একটি কম্পিউটার আছে। এবং আপনি আপনার কম্পিউটার দিয়ে সকল প্রকার সাধারন কাজকর্ম করে থাকেন, যেমন মুভি দেখা,গান সোনা ,এম এস ওয়ার্ডে কিছু লেখা লেখি করা বা এক্সেল এ কিছু হিসাব নিকাশ করা । এখন ধরুন আপনার প্রয়োজন পড়লো কোনো উচ্চমান কাজ এর যেমন আপনি উচ্চমান এর গেম খেলতে চাচ্ছেন কিংবা ভিডিও রেন্ডার করতে কিংবা অনেক ডাটা স্টোর করতে চাচ্ছেন। তো এই কাজ গুলো কিন্তু আপনি একটি সাধারন কম্পিউটার দিয়ে সহজেই করতে পারবেন না। আর যদি করতেও চান তবে আপনাকে আপনার কম্পিউটার টি আপগ্রেড করাতে হবে, আর এতে অনেক টাকা খরচ হতে পারে। কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং এর বদৌলতে আপনি খুব কম খরচেই এটি উচ্চমান এর কম্পিউটার ভাড়া নিতে পারেন । যাতে আপনি সকল উচ্চমানের কাজ করতে পারবেন খুব সহজেই আর সবচেয়ে সুবিধার কথা হলো আপনার কম্পিউটার বা যেকোনো কম্পিউটিং ডিভাইজ থেকে সেই ভাড়াকৃত কম্পিউটারটি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন।

হাঁ এটাই হলো ক্লাউড কম্পিউটিং। এটি একটি ভার্চুয়াল কম্পিউটার। অর্থাৎ কম্পিউটার এর যন্ত্রাংশ আপনি দেখতে পাবেন না কিন্তু যেকোনো স্থান থেকে এবং যেকোনো কম্পিউটিং ডিভাইজ থেকে একে রিমোট কন্ট্রোল এর মতো করে ব্যবহার করতে পারবেন। যেখানে আপনি ইচ্ছা মতো কনফিগারেশন করতে পারবেন এবং সকল উচ্চ মান এর কাজ করতে পারেন ইন্টারনেট সংযোগ এর মাধ্যমে। এখানে আপনি হাজার হাজার ডেটাও সংরক্ষন করতে পারবেন। এবং এমন সব কিছুই করতে পারবেন যা আপনার টেবিলে থাকা কম্পিউটার টি দিয়ে আপনি সহজে করতে পারবেন না। আপনার শুধু দরকার হবে একটি ভালো গতি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ।

অনেকে মনে করেন যে ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে শুধু ডাটা সংরক্ষন করা যায়। যেমন ওয়ান ড্রাইভ, গুগল ড্রাইভ বা ড্রপ বাক্স দিয়ে আমরা যেভাবে ডাটা সংরক্ষন করে রাখি। আসলে ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে যে শুধু ডাটা সংরক্ষন করা হয় তা না একে সম্পূর্ণ একটি বাস্তব কম্পিউটার এর মতোই ব্যবহার করা যায়। এবং আপনার ইচ্ছা মতো কনফিগার করতে পারবেন।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা ও অসুবিধাঃ

মনে করুন একটি কোম্পানিতে এক হাজার কর্মকর্তা কাজ করেন। তারা বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষন করে রাখেন এবং তা পরবর্তীতে ব্যবহার করেন। এখন এই বিষয়টি যদি কোম্পানি নিজে থেকে করার চেষ্টা করে তবে কোম্পানিটিকে একটি নির্দিষ্ট সার্ভার স্থাপন করতে হবে। এতে অনেক খরচ পরে যেতে পারে। কিন্তু সেই কোম্পানিটি যদি কোনো একটি ক্লাউড কোম্পানি থেকে ক্লাউড কম্পিউটার ভাড়া করে তবে সে অনেক সহজেই সকল ডাটা সংরক্ষন করতে পারবে। এবং তারা যে সফটওয়্যার ব্যবহার করে কাজ করে তাও ব্যবহার করতে পারবে। এবং এতে খরচ ও কম পড়বে। এখানে সবচাইতে আরেকটি বিষয় আছে। তা হলো ক্লাউড কম্পিউটিং এ ইচ্ছা মতো আপগ্রেসন করা যায়। মনে করুন কোম্পানিটির আরো ৫০০ জন কর্মকর্তা বৃদ্ধি পেয়ে গেলো। এতে আগের চেয়ে কাজ ও বেড়ে যাবে এবং বেশি ডাটা সংরক্ষন করার জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন পড়বে। বাস্তবিক ভাবে এটি করতে চাইলে বেশি কম্পিউটার এর প্রয়োজন পড়বে অথবা সিস্টেম আপগ্রেড করার দরকার হবে। কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং এর ক্ষেত্রে এই কাজটি অনেক সহজেই করা সম্ভব। এখানে আপনি ইচ্ছা মতো RAM বা CPU CORE বা STORAGE বারাতে পারবেন।

তাহলে আমারা ক্লাউড কম্পিউটিং এর কি কি সুবিধা দেখতে পেলাম?

সুবিধা

  • ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে পাওয়া সম্ভব।
  • ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে অনেক উচ্চমান সম্পূর্ণ কাজ করা সম্ভব। এবং প্রয়োজনীয় সকল সফটওয়্যার ব্যবহার করা সম্ভব যা হয়তো আপনাকে আলাদা টাকা দিয়ে কিনতে হতে পারত।
  • একসাথে অনেক ডাটা সংরক্ষন করা সম্ভব। এবং সেই ডাটা কখনই হারিয়ে যাবে না বা নষ্ট হয়ে যাবে না। ক্লাউড কম্পিউটিং কোম্পানি গুলোর অনেক ডাটা সেন্টার থাকে। তাই আপনার ডাটা নিয়ে আপনাকে কনো চিন্তা করতে হবে না।
  • ইচ্ছা মতো আপগ্রেড করা সম্ভব।
  • ক্লাউড কম্পিউটিং সেবার তুলনা মূলক ভাবে খরচ অনেক কম। আপনি বিভিন্ন মেয়াদে আপনার প্রয়োজন অনুসারে এই সেবাটি কিনতে পারেন। সেটা ১ মাস বা ৬ মাস বা ১ বছর কিংবা আজীবন হতে পারে।
  • প্রায় সকল প্রকারের কম্পিউটিং ডিভাইজ দ্বারা ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাটি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। মনে করুন আপনি একটি প্রোজেক্ট আপনার ঘরের কম্পিউটার দিয়ে ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে করছিলেন, তারপর আপনাকে অফিসে যেতে হলো আপনি রাস্তায় সেটা আপনার ট্যাবলেট বা ফোন থেকেও করতে পারবেন। এবং অফিস এ পৌঁছে আপনি অফিস এর কম্পিউটার এর সাথে ক্লাউড কম্পিউটিং সংযোগ করে সেই কাজটি অফিসে বসে করতে পারবেন।

অসুবিধা

সব জিনিসেরই সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও থাকে তাই ক্লাউড কম্পিউটি এরও ছোট খাটো কিু অসুবিধা আছে

  1. ক্লাউড কম্পিউটিং এর কোন সার্ভিস ব্যাবহার করতে হলে অবশ্যই আপনার দ্রুত গতির ইন্টারনেট কানেকশন লাগবে ইন্টারনেট কানেকশন না থাকেলে বা ধির গতির ইন্টারনেট কানেকশন  থাকলে আপনি ক্লাউড কম্পিউটিং এর কোন সার্ভিস-ই ব্যাবহার করতে পারবেন না ।
  2. আর একটি প্রবলেম হলো আপনি যখন একটি কম্পিউটার ক্রয় করবেন তখনন আপনি একটি ফিজিক্যাল ডিভাইজ পাবেন যেটা চালাতে অন্য কোন কম্পিউটিং ডিভাইজের প্রয়োজন পরবে না কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং এর ক্ষেত্রে যা কোন ভাবেই সম্ভব নয়, আপনার কাছে একটি কম্পিউটিং ডিভাইজ না থাকলে  ক্লাউড কম্পিউটিং এর সকল সার্ভিস-ই মূল্যহীন ।
  3. স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া নিয়ে কাজ চালানোর জন্য ক্লাউড কম্পিউটিং কোন বিকল্প নাই কিন্তু যদি আপনি ভাবেন বছরের পর বছর ক্লাউড কম্পিউটিং এর কোন সার্ভিস কিনে ব্যাবহার করবেন তবে লাভের থেকে লস-ই বেশি হয়ে যায়, মনে করুন আপনি আলিবাবা ক্লাউড থেকে উইন্ডজ বেজ একটি সার্ভিস বা রিমোট ডেক্সটপ কিনলেন আপনি মাসে মাসে দিচ্ছেন $99 এভাবে এক বছর ব্যাবহার করলে আপনার খরচ হয়ে যাবে $1188 যা আজকের ডলার রেট টাকাতে কনভার্ট করলে দাড়ায় ৯৯,৪৩৫ টাকা যা দিয়ে আপনি অনায়াসেই একটি ভালো মানের কম্পিউটার কিনে ফেলতে পারেন ।

 

আরো কিছু প্রয়োজনীয় আর্টিকেলঃ

যে সকল টেকনোলজির সাহায্যে Amazon তাদের 1 … ।।  বটনেট – জম্বি কম্পিউটার কি? জম্বি হওয়া থে… ।। এন্ড্রয়েড ফোন রুটিং এর সুবিধা ও অসুবিধা …

শেষকথাঃ

আশা করি ক্লাউড কম্পিউটিং কি, এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং এটি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ নিয়ে আপনাদের মনের সকল প্রশ্নের উত্তর এতক্ষণে পেয়ে গেছেন । উচ্চমান এর কাজ করার জন্য আপনার উচ্চমান এর কম্পিউটার থাকার প্রয়োজন পরবেনা। শুধু দরকার পড়বে ভালো ইন্টারনেট সংযোগের এবং আপনি ক্লাউড কম্পিউটিং এর সাহায্যে আপনার সকল প্রকার কাজ করতে পারবেন। তো কেমন লাগলো আজকের এই পোস্টটি তা আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। এবং আজকের পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে মোটেও ভুলবেন না।

 

1 Comment
  1. FirstMarcos 3 years ago

    I have noticed you don’t monetize your page, don’t waste your traffic, you
    can earn additional bucks every month because you’ve got high quality content.

    If you want to know how to make extra bucks, search for: Boorfe’s tips best adsense alternative

Leave a reply

CONTACT US

We're not around right now. But you can send us an email and we'll get back to you, asap.

Sending
©2012 - 2020 Techwave.Asia All Rights Reserved.
or

Log in with your credentials

Forgot your details?