আজ ২০১৭ এর শেষ দিন তাই আজ আমি ২০১৮ তে যেন আপনাদের একাউন্ট গুলো আরো বেশি বেশি সিকিউর রাখতে পারেন তা নিয়ে আলেঅচন করবো  দেখুন, আমরা যতোই বলি “হ্যাকার প্রটেক্টটেড পাসওয়ার্ড” —কিন্তু ব্যস্তবতা হলো কখনোই এমন কোন পাসওয়ার্ড তৈরি করা সম্ভব নয়, যেটা একজন রিয়েল হ্যাকারকে  প্রটেক্ট করতে পারে । হ্যাকার যেকোনো পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করতে পারে, শুধু প্রয়োজন হয় সময়, শক্তিশালী কম্পিউটিং সিস্টেম, সঠিক ওয়ার্ড ডিকশনারি, আর সঠিক নিয়মের ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক; ব্যাস দুনিয়ার যেকোনো পাসওয়ার্ড’কেই ব্রেক করা যাবে। আমি জানি, আপনি এখন ভাবছেন তাহলে এটা নিয়ে আলোচনা করে লাভ টা কি? আমি বলছি ”লাভ তো হ্যা মেরে দোস্ত” ! লাভ টা হলো  , হ্যাকারের হ্যাকিং’কে যত বেশি সম্ভব মুশকিল আর চ্যালেঞ্জে পরিনত করে দেওয়া।

দোকানের ঝাপ খোলা রেখে যদি বাড়ি গিয়ে ঘুমান তবে চোর তো মনের আনন্দে চুরি করে নিয়ে যাবেই কিন্তু যদি ঝাপ টা বন্ধ করে যান, তবে তার ঝাপটা খুলে চুরি করতে হবে আর যদি একটা তালা লাগিয়ে যান তবে চুরি সে ঠিকই করতে পারবে কিন্তু কষ্ট ও করতে হবে সেই চুরি করার জন্য, আর যদি ২/4 টা তালা লাগিয়ে যান তবে তো চোর মহাসয় একটু বিপদেই পরে যাবে কিন্তু এর মানে এই নয় যে সে চুরি করতে পারবে না, বা সে চুরি করবে না, সে হয়তো এত ঝামেলা দেখে আন্য কোন দোকানে চুরির চিন্তা করবে যদি না আপনার সাথে চোরের কোন ব্যাক্তিগত ঝামেলা থাকে । আর বেশিরভাগ হ্যাক অ্যাটাক -ই র‍্যান্ডম হয়ে থাকে, মানে এতে কোন টার্গেট থাকে না। হতে পারে কোন ই-কমার্স সাইট ডাটাবেজ হ্যাক হয়েছে, আর আপনি স্ট্রং পাসওয়ার্ড ক্রিয়েট করে রেখেছেন সেখানে, তো সম্ভবত হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড ব্রেক করতে পারবে না। কেনোনা তাদের টার্গেট র‍্যান্ডম, তারা একটি পাসওয়ার্ড ব্রেক করতে এতো সময় ব্যয় করবে না।

কিভাবে স্ট্রং পাসওয়ার্ড তৈরি করা যায় ।

প্রথমেই বলবো স্ট্রং পাসওয়ার্ডের তিনটি প্রধান টেকনিকের কথা , প্রথমত, পাসওয়ার্ডে এমন কোন ওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিৎ নয় যেটা অতি কমন এবং ডিকশনারি’তে রয়েছে। যদি কমন ডিকশনারি’র ওয়ার্ডও ব্যবহার-ও করেন, তো সেটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখতে হবে। দ্বিতীয়ত, অবশ্যই যথেষ্ট কঠিন আর জটিল পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত, এমন কমন টেকনিক ব্যবহার করে এই জটিল পাসওয়ার্ড রচনা করুণ, যেটা আপনার মনে থাকবে। আপনি পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে আরেক সমস্যা!

বিস্তারিত বলতে গেলে, প্রথমেই বলতে হয় পাসওয়ার্ড কতোটা লম্বা হবে সেই ব্যাপার নিয়ে —দেখুন এটা কোথাও লেখা নেই, পাসওয়ার্ড কতো ক্যারেক্টার লম্বা হওয়ার পরে সেটা সবচাইতে স্ট্রং পাসওয়ার্ড হিসেবে গন্য করা হবে। তবে যেকোনো পাসওয়ার্ড তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই কমপক্ষে ৮ ক্যারেক্টার পাসওয়ার্ড সেট করা অত্যাবশ্যক। হ্যাকার প্রতিরোধি পাসওয়ার্ড তৈরি করার জন্য ১৫-২০ ক্যারেক্টার পাসওয়ার্ড তৈরি করা জরুরী, এতে ব্রুট ফোর্স প্রসেস অনেক লং হয়ে যাবে এবং ডিকশনারি অ্যাটাক অনেক সময় সাপেক্ষ হয়ে যাবে, বেশিরভাগ হ্যাকার যেহেতু অলস প্রকৃতির হয়, তাই আপনি যদি একমাত্র টার্গেট না হয়ে থাকেন বা আপনার সাথে যদি কোন ব্যাক্তিগত ঝামেলা না থাকে , আপনার পাসওয়ার্ড ব্রেক করার কষ্ট তারা করবে না।

পাসওয়ার্ড কতো ক্যারেক্টার লম্বা হবে সেটার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে এতে যেন কোন ডিকশনারির ওয়ার্ড না থাকে। আপনার পাসওয়ার্ড যদি হয়, “purelove” —তো হোক আপনার পাসওয়ার্ড ৮ ক্যারেক্টার লম্বা, সেটা অতি সহজেই ডিকশনারি প্রোগ্রাম ব্যবহার করে ব্রেক করা সম্ভব হবে। বেস্ট পদ্ধতি হচ্ছে, বাক্য তৈরি করা, ফ্রেজ বা আলাদা টাইপের শব্দ ব্যবহার করা। অথবা আপনি যেকোনো বড় বাক্য থেকে প্রধান প্রধান লেটার গুলো উঠিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করতে পারেন।

যেমন—

  • techwave is the best technology blog in the world — titbtbitw
  • i love my country very much — ilmcvm
  • I love my life because it gave me you — Ilmlbigmy
  • Only saw you for a second, but it made my day — Osyfasbimmd
  • Dhaka is the capital of Bangladesh — DitcoB
  • Your problem isn’t the problem. Your reaction is the problem — YpitpYritp

কিছু প্রয়োজনীয় আর্টিকেল

ফ্রেজ গুলোকে লম্বা করুণ

আগেই বলেছি, পাসওয়ার্ড ১৫-২০ ক্যারেক্টার লম্বা হওয়ার পরে সেটা একটি স্ট্রং পাসওয়ারর্ডে পরিনত হয় এবং অনেকটা হ্যাকার প্রতিরোধী হয়ে যায়, তো এবার অবশ্যই আপনার সংক্ষিপ্ত শব্দকে লম্বা করতে হবে। যদিও লম্বা পাসওয়ার্ড মনে রাখা বা টাইপ করা অনেক বিরক্তকর ব্যাপার কিন্তু বিশ্বাস করুণ যতো লম্বা পাসওয়ার্ড, ততোই ব্রুট ফোর্স অ্যাটাকে বেশি সময় লাগাবে। ফ্রেজ গুলোকে লম্বা বানাতে সেটার সাথে কোন স্পেশাল সংখ্যা জুড়ে দিতে পারেন, অথবা মনে রাখার জন্য যে ওয়েবসাইটের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করছেন, তার নাম লাগিয়ে দিতে পারেন।

যেমন—

  • titbtbitw*1989 (আপনার জন্মের সাল)
  • [email protected]
  • Ilmlbigmy#Techwave.asia
  • Osyfasbimmd*Youtube
  • DitcoB!Gmaildotcom
  • YpitpYritp~windows

অ-বর্ণানুক্রমিক ক্যারেক্টার তৈরি করুণ

যখন আপনি পাসওয়ার্ডে ছোট হাতের অক্ষর বড় হাতের অক্ষর মিশিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করবেন, সেটা অনেক শক্তিশালী পাসওয়ার্ডে রুপান্তরিত হবে। সাথে স্পেশাল ক্যারেক্টার ব্যবহার করুণ, যেমন- (@#$%^&*); এই ক্যারেক্টার গুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে হ্যাকারের ডিকশনারি ডাটাবেজ আরো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে। এমন আজব টাইপের পাসওয়ার্ড তৈরি হবে যেটা মানুষ বা কম্পিউটার টুল কেউই সহজে অনুমান করতে পারবে না।

যেমন—

  • titbtbitw;1989
  • [email protected]*Dotcom(Dotbd
  • Ilmlbigmy%Techwave.~Asia
  • Osyfasbimmd*You#Tub^e
  • DitcoB#Gmaild$DotCom
  • YpitpYritp+win$$dOw!s

পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করুন ।

আর একটি বিষয়, নিয়মিত আপনার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে থাকুন বা উল্টাপাল্টা করে দিন—এতে আপনার পাসওয়ার্ড আর অ্যাকাউন্ট দুটোই হ্যাক প্রতিরোধী অবস্থায় থাকবে। একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন একাইন্টে ব্যাবহার করবেন না, সকল কাজের ওয়েবসাইট গুলোর পাসওয়ার্ড কয়েক সপ্তাহ পর পর পরিবর্তন করে ফেলুন। আর, আরো বেশি শক্তিশালি করার জন্য  2FA ‍ সেকেন্ড ফেক্টর অথান্টিকেটর (গুগল অথান্টিকেটর ) বা আন্য কোন অথান্টিকেটর অ্যাপ ব্যাবহার করুন যাতে আপনার ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ ছারা অন্য ডিভাইজে লগিন করতে গেলে লগ-ইন ভেরিফােই করতে হয়,

আপনি যদি সব সময় অনলাইনে কাজ করে থাকেন তবে আপনার হয়তো অনেক একাউন্ট হয়ে যায়, তাই পাসওয়ার্ড-ও অনেক বেশি হয়ে যায়, আর এত পাসওয়ার্ড মনে রাখাও আপনার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পরে ,এক্ষেত্রে আপনি ভালো কোন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফটওয়্যার যেমন লাস্টপাস অনেক ভালো একটি প্রোগ্রাম, যেটি আলাদা আলাদা সাইটের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করে এবং মনে রাখে, আপনাকে শুধু মাস্টার পাসওয়ার্ড মনে রাখার প্রয়োজন পড়বে, ব্যাস। তবে এখানেও একটি রিস্ক রয়েছে ,  যদি আপনার পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ডাটাবেজ হ্যাক হয়, বা সফটওয়্যার কোম্পানি টি যদি জিরো নলেজ টেকনোলজি ব্যাবহার না করে তবে তারা ইচ্ছে করলে আপনার পাসওয়ার্ড দেখে নিতে পারে আর এ জন্য আপনি জিরো নলেজ টেকনোলজি ব্যাবহার করে এমন একটি সফটওয়্যার “ইনক্রিপ্টর” সফটওয়্যার টি ব্যাবহার করতে পারেন ।

নিচে কিছু ভালো পাসওয়ার্ডের উদাহরণ দেয়ার চেষ্টা করলাম

[table id=1 /]

শেষ কথা

তো মেরে দোস্ত, আশা করি কিভাবে একটি স্ট্রং এবং হ্যাকার প্রটেক্টটেড পাসওয়ার্ড তৈরি করা যায়, সেই সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে। আসলে আমরা নিরাপত্তা ব্যাবস্তা যতই শক্তিশালী করতে থাকি হ্যাকার’রাও তাদের টেকনিক পাল্টে এক ধাপ এগিয়ে থাকে, তাই কখনোই অলসতার বসে সাধারণ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার অ্যাকাউন্ট’কে হুমকির মুখে ফেলার ভুল করবেন না। আর আর্টিকেলটি বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের ও জানার সুযোগ করে দিন এবং আপনার কাছেও যদি আরো ভালো কোন শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈররি ম্যাথড থাকে তবে আবশ্যই কমেন্ট করে সবার মাঝে শেয়ার করুন,সবশেষে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করালাম ।

0 Comments

Leave a reply

CONTACT US

We're not around right now. But you can send us an email and we'll get back to you, asap.

Sending
©2012 - 2020 Techwave.Asia All Rights Reserved.
or

Log in with your credentials

Forgot your details?