ভাবুন তো যদি এমন হতো যে আপনি আছেন ঢাকা আর আপনার মনের মানুষ আছে যশোর বা খুলনায় বা অন্য কোনো দেশে  কিন্তু দু-জনে পাশা পাশি বা সামনা সামনি বসে-ই কথা বলছেন হ্যা সত্যি বলছি এ প্রযুক্তি-ই বাস্তবায়িত হতে চলেছে MR (এম আর) বা মিক্সড রিয়ালিটির মাধ্যমে ,আপনারা অনেকেই হয়তো ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং অগমেনটেড রিয়্যালিটি এর নাম শুনেছেন বা এর সম্পর্কে জানেন। কিন্তু মিক্সড রিয়ালিটি(MR) এবং এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি(XR) হয়তো অনেকেরেই অজানা

যদিও আজ আমিও ভার্চুয়াল এবং অগমেনটেড  রিয়্যালিটি নিয়ে-ই আলোচনা করবো আপনাদের সামনে আরো বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবো এই প্রযুক্তি গুলো কি? এগুলো কীভাবে কাজ করে এবং এদের ভেতর কি পার্থক্য আছে,আমরা সকলেই জানি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি কে সংক্ষিপ্ত ভাষায় “ভি আর” (VR) এবং অগমেনটেড রিয়্যালিটি কে সংক্ষিপ্ত ভাষায় “এ আর” (AR) বলা হয়ে থাকেে আর মিক্সড রিয়ালিটিকে বলা হয় (MR) এবং এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটিকে বলা হয় (XR)

হলিউডের বিখ্যাত মুভি ‘আইরন ম্যান’। চলচ্চিত্রটির কথা আরেকবার মনে করিয়ে দেই। এতে এমন এক ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার দেখানো হয় যা দিয়ে ইচ্ছেমতো প্রয়োজনীয় ডাটা বা তথ্যকে সামনে বড় করে ধরা, এক অংশকে ভেঙে ছোট অংশকে হাইলাইট করা, আপাত দরকার নয় এমন অংশকে পাশে সরিয়ে রাখা হয়। কল্পনার জগতে উঁকি দেয়, ইশ! যদি সম্ভব হতো ভার্চুয়াল জগৎ আর বাস্তব জগতের সরাসরি সম্পর্ক! এতদিন তা অসম্ভব মনে হলেও বাস্তবিকভাবেই প্রযুক্তির নতুন এই অধ্যায়ের সূচনা করেছে অগমেনটেড রিয়্যালিটি(AR), মিক্সড রিয়ালিটি(MR) এবং এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি(XR) নামের নতুন প্রযুক্তি গুলোর মাধ্যমে । ‘অগমেন্টেড রিয়েলিটি’ ইতিমধ্যে ডিজিটাল দুনিয়ায় বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে । ভার্চুয়াল রিয়েলিটির (ভিআর) মতো ধারণাকে পেছনে ফেলে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) ইতিমধে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি

কোন একটি বাস্তব “স্থির চিত্র” বা ”চলমান চিত্র” কে আপনি অন্য কোন স্থানে দেখা যেখানে আসলে সে রকম কিছুই নাই বা আপনি এমন এক দুনিয়ায় চলে গেলেন যেখানে আপনি নেই, কিন্তু আপনার মনে হবে যে আপনি সেখানে আছেন। কিন্তু বাস্তবে আপনি যেখানে বসে ছিলেন আপনার বাসার সোফায় সেখানেই আছেন। একটা উদাহরন এর মাধ্যমে বিষয়টিকে পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি। ভি আর ব্যবহার করার জন্য আপনার একটি ভি আর হেডসেট এর প্রয়োজন হবে। এখন আপনাকে এই ভি আর হেডসেটটি চোখে পড়তে হবে। ভি আর হেডসেটটি আপনার ফোন অথবা কম্পিউটার দিয়ে চলে। এখন এটির মধ্যে ভিডিও চালানো হয়। ভিডিওটি ৩৬০ ডিগ্রি অথবা থ্রি ডি হয়। এখন আপনি যখন সেই ভিডিও টিকে ভি আর হেডসেট দিয়ে দেখেন তখন মনে হবে যে আপনি ঐ ভিডিও টিতে চলে গেছেন। এবং ঐ ভিডিও টির আপনিও একজন অংশ। কিন্তু বাস্তবে আপনিতো আপনার ঘরেই বসে আছেন। আসলে এটাই হলো ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্রযুক্তির কাজ।

মনে করুন আপনি এখন একটি ভি আর হেডসেট পড়ে নিয়েছেন। এবং আপনার ভি আর হেডসেটটিতে রায়ের বাজার বধ্যভূমির  স্থির চিত্র বা ভিডিও লোড করে দেওয়া হলো, তবে আপনি ঘরে বসে বসেই মনে করবেন যে আপনি রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে  চলে গেছেন। আপনার চারিদিকে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে আসা, অনেক লোকজন আর লাইট এবং আপনি সেখানেই ঘুরছেন এবং সব কিছু নিজেই দেখতে পাচ্ছেন। ভিডিও বা স্থির চিত্র টি যদি ৩৬০ ডিগ্রি হয়ে থাকে তবে আপনার মাথা মুভ করার সাথে সাথে ভিডিও বা স্থির চিত্র টিরও সিন মুভ করবে। এবং আপনাকে এক বাস্তব অনুভূতি দেবে। যেটা কিনা আসলে নেই।

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এর উদাহরন

ছবিঃ গুগল কার্ডবোর্ড

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এর উদাহরন দিতে গেলে প্রথমেই উঠে আসবে  গুগল কার্ডবোর্ডের কথা। গুগল কার্ডবোর্ড এমন একটি ভি আর ডিভাইজ যার মাধ্যমে আপনি অতি কম মূল্যে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির স্বাদ নিতে পারেন। যদি উচ্চমান সম্পূর্ণ ভি আর এর কথা বলি তাহলে বলতে হয় “অকিউলাস রিফ্ট” এর কথা। অকিউলাস অনেক বড় একটি কোম্পানি, এবং গত অনেক বছর ধরে এরা ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এর উপর কাজ করছে। অকিউলাস ছাড়াও যদি আমি আপনাকে উদাহরন দেই তবে বলতে পারি “স্যামসাং গিয়ার ভি আর” এর কথা। এটিও একটি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ডিভাইজ যেটি কিনা স্যামসাং দ্বারা নির্মিত। তাছাড়াও রয়েছে সনির “প্রোজেক্ট মরফেস” এবং এইচ টি সি এর “ভাইভ” ইত্যাদি।

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এর সুবিধা

আপনাদের আগেই বললাম যে ভি আর দিয়ে আপনি থ্রি ডি ভিডিও দেখতে ও খেলতে পারবেন ইউটিউব থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও দেখতে পারবেন ৩৬০ ডিগ্রি গেম খেলতে পারবেন । ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্রযুক্তিটি খুব সস্তা, এটি উপভোগ করতে আপনাকে বেশি টাকা খরচ করতে হবে না। অনেক সময় ভি আর এর সব কাজ আপনার ফোনটি করে দেয়। যেমন গুগল কার্ডবোর্ড এ আপনার ফোনটি লাগানো থাকে। এবং অ্যাপস এর মাধ্যমে আপনার ফোন এর স্ক্রীন দুইভাগে দেখতে পাওয়া যায়। এবং এর লেন্স এর মাধ্যমে দেখার জন্য আপনার কাছে সব কিছু বড় বড় এবং আসল মনে হয়।

তবে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির পরিপূর্ন স্বাধ পেতে অবশ্যই আপনার ফোনে জরসকোপ সেন্সর থাকতে হবে। জরসকোপ না থাকলে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ব্যবহার করতে বা উপভোগ করতে পারবেন না এমন টি নয়, কিন্তু আপনি যখন একটি ভি আর হেডসেট লাগাবেন তখন শুধু মাত্র ভিডিও টিকে একটি বড় পর্দায় দেখতে পাবেন।মনে হবে আপনি একটি সিনেমা হলে বসে  ভিডিও টি দেখছেন। এছাড়া আপনি আর কিছু করতে পারবেন না।আপনার ফোন এ যদি জরসকোপ থাকে তবে আপনি ভি আর এর পুরাপুরি মজা নিতে পারবেন। জরসকোপ হলো আপানার ফোনটিতে থাকা একটি হার্ডওয়্যার সেন্সর যেটি আপনার ফোন এর সফটওয়্যার কে বলে দেবে আপনার মাথার অ্যাঙ্গেল। অর্থাৎ যখন যখন আপনি আপনার মাথাটি মুভ করবেন তখন তখন আপনার ভিডিওটিও মুভ হবে। এবং আপনি একটি বাস্তব অনুভূতি অনুভব করতে পারবেন। মনে করুন আপনি একটি ভিডিও দেখছেন যেখানে আপনি একটি ৫০ তলা বিল্ডিং দেখছেন। এখন আপনি যদি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তবে আপনি বিল্ডিংটিকে সোজাই দেখতে পাবেন, যদি আপনিএকটু হেলে মাথা উঁচু করেন তবে আপনি বিল্ডিংটির মাথা দেখতে পাবেন র্আর্থাৎ বিল্ডিংটির উপরের ফ্লোর গুলো দেখতে পাবেন । আশা করি আপনি জরসকোপ থাকার সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে বুঝে গেছেন।

অগমেনটেড রিয়্যালিটি

অগমেন্টেড রিয়েলিটি হলো বাস্তব জগতের বিভিন্ন অংশ বা দৃশ্যের প্রাসঙ্গিক শব্দ, ভিডিও, গ্রাফিক্স বা জিপিএস ডেটার বর্ধিতকরণের মাধ্যমে কমপিউটার জেনারেটেড ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ইনপুট ব্যবহার করে তৈরি ডাইরেক্ট বা ইনডাইরেক্ট ভিউ।

আধুনিক অগমেন্টেড টেকনোলজি (যেমন কমপিউটার ভিশন এবং অবজেক্ট রিকগনিশন) ব্যবহার করে এর ইউজার তার চারপাশের তথ্য প্রভাব বিস্তারকারী ও ডিজিটালি ম্যানিপুলেবল করে তুলতে পারেন। তার চারপাশের পরিবেশের বিভিন্ন আর্টিফিশিয়াল ইনফরমেশন তিনি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তবে উপস্থাপন করতে পারেন।

অগমেনটেড রিয়্যালিটি, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এর একটি অত্যাধিক উন্নত সংস্করণ। অগমেন্টেড রিয়েলিটি (Augmented Reality) মূলত একটি বাস্তব নয়, কিন্তু বাস্তবের কোনকিছুর সাথে আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়বিক অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা আর কম্পিউটার সিমুলেশান ব্যবহার করে দুটি ভিন্ন ঘটনাকে মিলিয়ে দেবার একটি উপায়। এই প্রযুক্তি শুধু কল্পবিজ্ঞানকেই বাস্তবায়িত করে না, অদৃশ্য জগৎকেও দেখতে সাহায্য করে। যেমন আপনি চেয়ারে বসে চোখে হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে লাগিয়ে একটা সিমুলেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে একেবারেই ভিন্ন কিছু যেমন আয়রনম্যান মুভির মতই একটা ত্রিমাত্রিক পরিবেশের স্বাদ পেতে পারেন!

মনে আছে, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটিতে কি হয়? আপনি থাকেন ঘরে বসে কিন্তু মনে হয় আপনি ঘরে নেই এবং চলে গেছেন আরেকটি জগতে। কিন্তু অগমেনটেড রিয়্যালিটি তে আপনি ঘরে বসে থাকলে আপনার মনে হবে আপনি ঘরেই বসে আছেন, আপনি কোথাও যাননি। কিন্তু এখানে আপনি যে ফুটেজ দেখতে পাবেন তা মনে হবে আপনার ঘরের ভেতরই ঘটছে। মনে করুন আপনি ডাইনোসর এর ভিডিও দেখছেন এ আর এর মাধ্যমে, এখন আপনার মনে হবে যে ডাইনোসর আপনার ঘরের ভেতরই বসে আছে। হয়তো আপনার ঘরের দেওয়াল ফেটে ডাইনোসর প্রবেশ করলো। অগমেনটেড রিয়্যালিটি তে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির মতো আপনার মনে হবে না যে আপনি ডাইনোসর এর দুনিয়াই চলে গেছেন, বরং আপনার মনে হবে যে আপনার এই দুনিয়াই অর্থাৎ আপনার ঘরেই ডাইনোসর চলে এসেছে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী বলছেন, স্মার্টফোন যেভাবে প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম উপাদান হয়ে উঠেছে তেমনি মানুষের জীবনের সঙ্গে এই অগমেন্টেড রিয়েলিটি মিশে যাবে অদূর ভবিষ্যতে। শুধু কি তাই? প্রযুক্তি ব্যবসাকে আরও উন্নত ধাপে নিয়ে যাবে এই অগমেন্টেড রিয়েলিটি। মার্কেট স্ট্যান্ড মার্কেটের মতো গ্লোবাল মার্কেট রিসার্চ ও কনসাল্টিং ফার্ম এরইমধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ২০২২ সালের মধ্যে এআর ১১৭.৪০ বিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি করতে যাচ্ছে। গুগল-ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো প্রথম অবস্থায় এই এআর থেকে আয় করতে পারবে। আর তা সম্ভব হবে প্রচলিত ধারার বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার বিকল্প ধারা তৈরি করতে পারার ওপর। অগমেন্টেড রিয়েলিটির ফলে যে কোনো কোম্পানি যে কোনো ধরনের অবজেক্টের ওপর তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারবে। এর ফলে পপ অ্যাপের মতো ঝামেলা থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে। বন্ধুর দেওয়া এআর নির্দেশনা পেতে অ্যাপ ইনস্টল করে তার পছন্দের স্থান সম্পর্কে জানা যাবে।

অগমেন্টেড রিয়েলিটিতে আমরা

বিশ্বে যখন এ আর নিয়ে মাতামাতি করছে আমরাই-বা তখন পিছিয়ে থাকবো কেন। ইতিমধ্যে নতুন এ প্রযুক্তিতে ‘১৯৫২’ নামের মোবাইল অ্যাপ প্রকাশ করেছে রাইজআপ ল্যাবস। ২ টাকার নোটকে কেন্দ্র করে এআর প্রযুক্তিতে ভাষা আন্দোলনের সচিত্র বর্ণনা অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছে অ্যাপটি। অ্যাপটি চালু করে ‘শুরু করুন’ বাটন চেপে ২ টাকার নোটের শহীদ মিনারের ওপর স্মার্টফোনের ক্যামেরাটি ধরলেই অগমেন্টেড রিয়েলিটির জাদু উপভোগ করা যাবে। পাশাপাশি জানা যাবে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। আগামীতে এ প্রযুক্তিতে আরও নতুন নতুন কাজ করা হবে বলে জানালেন রাইজআপ ল্যাবের প্রধান নির্বাহী। অ্যাপটি বিনামূল্যে www.riseuplabs.com থেকে ডাউনলোড করা যাব।

অগমেন্টেড রিয়েলিটির উত্তাপ ইতিমধ্যে টের পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বিনোদনে দারুণ প্রভাব বিস্তার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আলোচিত গেম ‘পোকেমন গো’ তৈরি করা হয় অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে। অ্যাপলের তথ্যমতে, তাদের স্টোর থেকে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড করা অ্যাপ হলো এই পোকেমন গো। এ থেকে বোঝা যায় অগমেনটেড রিয়েলিটি ভিডিও গেম জগৎকে এক রকম শাসন করবে নিকট ভবিষ্যতে, অগমেন্টেড রিয়েলিটির সঙ্গে প্রযুক্তির সব ক্ষেত্রেই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। হার্ডওয়্যার, ডিসপেল্গ, এইচইউডি, কন্টাক্ট লেন্স, ভার্চুয়াল রেটিনাল ডিসপ্লে, আইট্যাপ, হ্যান্ডহেল্ড, ট্র্যাকিং, ইনপুট ডিভাইস, কম্পিউটার প্রভৃতি প্রযুক্তি ডিভাইসের সঙ্গে এআর প্রযুক্তির সমন্বয় সম্ভব হয়েছে। সাহিত্য, প্রত্নতত্ত্ব, স্থাপত্য, ভিজুয়াল আর্ট, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, জরুরি ব্যবস্থাপনা, অনুসন্ধান, ভিডিও গেমস, শৈল্পিক নকশা, মেডিকেল, সামরিক, নেভিগেশন, সম্প্রচার এবং লাইভ ইভেন্ট, পর্যটন, অনুবাদ, সঙ্গীত কোথায় থাকবে না অগমেন্টেড রিয়েলিটি। আগামীর বিশ্বকে এ আর নির্ভর বিশ্ব বলা হলেও কিন্তু বাড়িয়ে বলা হবে না!

অগমেনটেড রিয়্যালিটি এর উদাহরণ ও ব্যবহার

অগমেনটেড রিয়্যালিটি এর উদাহরণ দিতে গিয়ে বলতে হয় গুগল গ্লাস এর কথা। এটি একটি চশমার মতো। গুগল গ্লাস যখন আপনি পড়ে নেবেন তখন আপনার মনে হবে না যে আপনি অন্য কোথাও চলে গেছেন। আপনি বাস্তব দুনিয়াতেই থাকবেন কিন্তু আপনার বাস্তব দুনিয়ার এক পাশে ছোট একটি স্ক্রীন বের হবে। যেখানে আপনি ভিডিও বা কোনো কাজ দেখতে পাবেন।

মনে করুন আপনি বাইক চালাতে চালাতে গুগল গ্লাস পড়ে আছেন। তবে আপনি আপনার বাইক এবং রাস্তাই দেখতে পাবেন, কিন্তু এক কোনায় ছোট করে একটি ম্যাপ উঠে থাকবে যেখানে আপনার বাইক কোথাই যাচ্ছে এবং আপনার অবস্থান এর বর্ণনা থাকবে।

যদি অত্যাধিক উন্নত অগমেনটেড রিয়্যালিটি ডিভাইজ এর কথা বলতে চাই তবে বলতে হয় “মাইক্রোসফট হলো লেন্স” এর কথা। এটি একটি অসাধারন অগমেনটেড রিয়্যালিটি ডিভাইজ। এখানে আপনি আপানার দুনিয়াতেই অনেক কিছু ভার্চুয়াল বস্তু তৈরি করতে পারবেন। মনে করুন আপনি একটি ড্রেসিং টেবিল কেনার কথা ভাবলেন। এখন এই ড্রেসিং টেবিল আপনার ঘরে কেমন মানাবে বা কি রঙ বা ডিজাইন সর্বউত্তম হবে তা শুধু জানা সম্ভব ড্রেসিং টেবিলটি কিনে আপনার ঘরে বসানোর পরে। কিন্তু আপনি যদি মাইক্রোসফট হলো লেন্স পড়ে থাকেন এবং আপনার ট্যাবলেট বা মোবাইল এ ড্রেসিং টেবিল এর গঠনটি প্লে করেন তবে আপনার ঘরে একটি ভার্চুয়াল ড্রেসিং টেবিল দেখতে পাবেন। আপনি সেই ভার্চুয়াল ড্রেসিং টেবিলটি সব দিক থেকে দেখতে পাবেন, আপনার কাছে একদম আসল মনে হবে। আপনি চাইলে এই রঙ, ডিজাইন সব পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। আপনার কাছে সবই একদম জিবন্ত মনে হবে। আপনার এই রকম মনে হবে না যে চোখের এক কোনায় কোনো স্ক্রীন আছে বা আপনি সম্পূর্ণই নতুন জগতে চলে গেছেন। আপনার বাস্তব জীবনেই সব ভার্চুয়াল বস্তু বাস্তব হিসেবে দেখতে পাবেন।

কীভাবে কাজ করে এআর

এ আর দেখতে যতটা সরল, এর কার্যপদ্ধতি কিন্তু ঠিক ততটাই কঠিন। এ আর প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয় উচ্চ গতির প্রসেসর, ডিসপ্লে গ্লাস, অডিও ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস, জিপিএস, বিভিন্ন ধরনের মোশন সেন্সর, ক্যামেরা ইত্যাদি। গ্লাস ছাড়াও নানা ধরনের ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এতে। অগমেন্টেড রিয়েলিটির জন্য হেডসেট থাকলেও এই প্রযুক্তিগুলো স্মার্টফোনেও থাকে বলে এ আর-কে স্মার্টফোনেও ব্যবহার করা যায়। সম্প্রতি বাজারে আসা আইফোন ৮ এবং আইফোন ১০ এ এআর ব্যবহার করার সুবিধা আছে। এআর-এর জন্য দরকার হয় Real Time Data, যার ফলে আপনি বাস্তব পরিবেশের সাথে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করতে পারেন।

একটি এআর ডিভাইসের বাইরে থাকে সাধারণত সেন্সর এবং ক্যামেরা। সেন্সর আপনার চারপাশের পরিবেশ থেকে সব তথ্য সংগ্রহ করবে, যেমন- আপনার নড়াচড়া, শব্দ, আলো এসব। আর বাস্তব জগতের চিত্রায়িত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ক্যামেরা প্রধান ভূমিকা পালন করে। অগমেন্টেশনের জন্য ছবি তোলা কিংবা ভিডিও ধারণ করার মতো কাজগুলো করে ক্যামেরা।

যেসব এআর ডিভাইসে প্রোজেক্টর ব্যবহার করা হয়, সেগুলো যেকোনো তলকেই ‘ইন্টারএ্যাক্টিভ স্ক্রিন’ বানিয়ে ফেলতে সম্ভব। আপনার হাতের ‘ডাটা গ্লাভস’ থেকে সেটি ইনপুট গ্রহণ করে প্রসেস করবে সেক্ষেত্রে।

অ্যামাজন শপের মাধ্যমে কিভাবে ঘর সাজালে ভালো দেখাবে সেটা যাচাই করতে পারেন ইচ্ছেমতো

এখন কথা হলো, এত এত ডাটা যায় কোথায়! আসলে প্রতিটি এ আর ডিভাইস হলো একেকটি কম্পিউটার। আর তাই ডাটা প্রোসেস করার জন্যে আছে প্রসেসর, RAM, মেমোরি প্রভৃতি। ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ডাটা নিয়ে সেগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু অ্যালগরিদমের ভিত্তিতে তৈরি সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর এই কাজগুলোর জন্যই দরকার হয় উচ্চগতির প্রসেসর। যতই দিন যাবে, আকারে ছোট হয়ে আসবে এই প্রযুক্তি। আপনার প্রতিটি নড়াচড়া ট্র্যাক করে সেন্সর। ফলে ইশারা করলেই আপনার ইশারা বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করবে এ আর। বাস্তব জগতের সাথে সে অনুযায়ী মিলিয়ে এটি তথ্য তুলে ধরবে আপনার সামনে।

অগমেন্টেড রিয়েলিটির ক্রমিক ইতিহাস

আধুনিক এ আর প্রযুক্তির আধুনিক ধারণাটা কিন্তু এসেছিল সেই ১৯০০ সালের দিকেই। The Wonderful Wizard of Oz এর লেখক L. Frank Baum  ১৯০১ সালে একটি ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে স্ক্রিনের ধারণা দেন, যাতে বিভিন্ন তথ্য বাস্তব পরিবেশের সাথে মিশ্রিত হয়ে পরিবেশিত হবে। ১৯৬৮ সালে প্রথম হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে তৈরি করেন Ivan Sutherland। এরপর ১৯৮০ সালে প্রথম শরীরে সংযুক্ত করা যায় এমন কম্পিউটার তৈরি করেন Steve Mann, যেটি ছিল একটি কম্পিউটার ভিশন সিস্টেম। এতে ব্যবহৃত হয়েছিল টেক্সট এবং গ্রাফিক্স নির্মিত পরিবেশ। ১৯৯৯ সালে সাবেক বোয়িং গবেষক Thomas P. Caudell সর্বপ্রথম ‘অগমেন্টেড রিয়েলিটি’ শব্দগুচ্ছটি প্রকাশ করেন। কিন্তু অগমেন্টেড রিয়েলিটির পথচলা শুরু হয় মার্কিন বিমান বাহিনীর আর্মস্ট্রং ল্যাব এর হাত ধরে। ১৯৯২ সালে Louis Rosenberg  একটি এ আর সিস্টেম তৈরি করেন, এর নাম দেওয়া হয়েছিল Virtual Fixtures। এতে ব্যবহার করা হয়েছিল ফুল আপার বডি এক্সোস্কেলিটন, যেটা ব্যবহারকারীকে পরানো হত কন্ট্রোল করার জন্য আর ছিল দুটি রোবোটিক আর্ম এবং আইগ্লাস।

Louis Rosenberg পরীক্ষা করে দেখছেন Virtual Fixture; source : Wikipedia

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে এমআইটি মিডিয়া ল্যাব এর ফ্লুইড ইন্টারফেয়ার গ্রুপের হয়ে একটি এ আর গ্যাজেট তৈরি করেন প্যাটি মেইজ এবং প্রণব মিস্ত্রী মিলে। তারা এর নাম দিয়েছিলেন SixthSense। এতে ব্যবহার করা হয়েছিল ক্যামেরা, ছোট প্রজেক্টর, স্মার্টফোন, আয়না এবং আঙুলের জন্য বিশেষ ক্যাপ। এর একটি বিশেষত্ব ছিল, তা হলো এটি যেকোনো সারফেসকে ইন্টারএ্যাক্টিভ স্ক্রিন বানিয়ে কাজ করার সুবিধা দিত। কিন্তু ২০১৩ সালে গুগল গ্লাস বাজারে আসার পর মানুষের মাঝে এ আর নিয়ে সাড়া পড়ে যায়। গুগল গ্লাস ব্যবহারকারীর কথা, স্পর্শ বা মাথার নড়াচড়াতে সাড়া দিতে সক্ষম ছিল। এটি দেখতে ছিল অনেকটা সাধারণ ফ্রেমের চশমার মতো। বেশ সাড়া ফেললেও বাণিজ্যিকভাবে তেমনটা সফল না হওয়াতে সেটি উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং এর আরো উন্নত ভার্শনের জন্য কাজ শুরু করে গুগল

২০১৬ সালের মার্চে মাইক্রোসফট বাজারে আনে HoloLens, যা ছিল গুগল গ্লাসের চেয়ে উন্নত ও সফল ডিভাইস। এটি ছিল উইন্ডোজ টেন ভিত্তিক ‘মিক্সড রিয়েলিটি ডিভাইস’। এছাড়াও ২০১৬ সালে ব্যাপক সাড়া ফেলে Pokemon Go গেমটি। একে অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অগমেন্টেড রিয়েলিটির একটি ট্রেলার বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, অগমেন্টেড রিয়েলিটি কেমন হতে পারে, তার আভাস রয়েছে এতে। কিন্তু একে পুরোপুরিভাবে অগমেন্টেড রিয়েলিটির উদাহরণ বলা যায় না।

মাইক্রোসফট হলোলেন্সের সাহায্যে করা যাবে ডিজাইনিং বা ইঞ্জিনিয়ারিংও

এআর প্রযুক্তি পাল্টে দিতে পারে আমাদের ভবিষ্যৎ। চিকিৎসা, শিক্ষা, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, কনফারেন্স, ডিজাইনিং, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই আছে এর ব্যাপক চাহিদা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আর অন্যান্য সব প্রযুক্তির জায়গা দখল করে নিতে পারে। সাথে সাথে এটি আমাদের জন্য খুলে দিতে পারে অপার সম্ভাবনার দ্বার। যদিও এই প্রযুক্তি এখনো সেভাবে বিস্তার লাভ করেনি, অভাব রয়েছে এ আর উপযোগী কনটেন্টের। তবে গুগল, ফেসবুক কিংবা মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় কোম্পানি বসে নেই। এই খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছে তারা। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এ আর হবে আমাদের নিত্য সঙ্গী। কিন্তু মানুষ কতটা সঠিকভাবে ব্যবহার কর‍তে পারবে এই প্রযুক্তিকে, সেটিই মূলত ভাববার বিষয়।

মাইক্রোসফ্ট হলোলেন্স

কিন্তু এই পর্যন্ত সবচেয়ে তাক লাগানো অগমেন্টেড রিয়েলিটি সম্বলিত ডিভাইসটি তৈরি করেছে মাইক্রোসফ্ট (Microsoft)। তাদের যন্ত্রের নাম হলোলেন্স (Microsoft Hololens)। এই যন্ত্রটিতে রয়েছে একটি Head Gear যা অনেকটা একটি আধুনিক সানগ্লাসের মতই। এই গ্লাসের সহায়তায় ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই ঢুঁ মেরে আসতে পারেন গেমস বা সিনেমার দুনিয়ায় অথবা ঘুরে আসতে পারেন দূরের কোন দেশ থেকে।

অবশ্য এখনো অগমেন্টেড রিয়েলিটি খুব সহজলভ্য কোন প্রযুক্তি নয়।প্রাথমিকভাবে এর ব্যয়ভার অনেক বেশী। অন্যদিকে, বিজ্ঞানীরা অগমেন্টেড রিয়েলিটির মাধ্যমে মানুষের ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে যাবার ব্যাপারে নিজেদের আশংকা জানিয়েছেন। কারোর মতে, এটা মানবজাতিকেই নিঃশেষ করে দিতে পারে। কল্পনানির্ভর এই প্রযুক্তি ক্রমেই মানুষের চিন্তা করবার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে বলে তারা বারবার হুঁশিয়ার করছেন। অগমেন্টেড রিয়েলিটির মাধ্যমে মানুষের সামাজিক যোগাযোগের ক্ষমতাও হ্রাস পেতে পারে বলে তারা মনে করছেন। মাত্রারিক্ত স্মার্টফোন আসক্তি আমাদের ক্ষতিই করবে বলে ভাবছেন তারা।

 

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং অগমেনটেড রিয়্যালিটি এর মধ্যে পার্থক্য

আশা করি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং অগমেনটেড রিয়্যালিটি এর মধ্যে পার্থক্য এতোক্ষণে বুঝে গেছেন নিশ্চয়। তবুও একবার ঝালাই করে নেওয়া যাক, যেন আপনি যখন আপনার বন্ধুকে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং অগমেনটেড রিয়্যালিটি সম্পর্কে বলবেন তখন আপনার মধ্যে যেনো কোনো ধরনের কনফিউশন না থাকে ।

শেষ কথাঃ

আশা করছি আজকের এই পোস্টটি থেকে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং অগমেনটেড রিয়্যালিটি নিয়ে যথেস্ট ধারনা পেয়ে গেছেন  তার পরেও যদি আপনাদের জানার কিছু থাকে তবে কমেন্টস করে জানাবেন, আর হ্যা যদি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং অগমেনটেড রিয়্যালিটির মতো মিক্সড রিয়ালিটি(MR) এবং এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি(XR) সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে চান তবে কমেন্টসে জানান আমি জতটুকু জানি আপনাদের জানানোর চেস্টা করবো  ।  তবে বন্ধুরা  অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর তাছাড়া এই সাইটি নিয়মিত ভিসিট করুন। ভিসিট করলে আপনার সময় বৃথা যাবে না, এই ব্লগেঅনেক মজাদার প্রযুক্তি পোস্ট আছে, যা আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে।

2 Comments
  1. MujahiD 2 years ago

    টেকওয়েভ এ রেজিস্টার করবো কিভাবে?

    • Author
      Gm Sumon 2 years ago

      টেকওয়েভ এ রেজিস্টার বর্তমানে বন্ধ আছে তবে আপনি যদি আর্টিকেল লেখার জন্য রেজিস্টার করতে চান তবে আমরা আপনাকে লিংক পাঠাবো আপনি রেজিস্টার করে নিতে পারবেন ।

Leave a reply

CONTACT US

We're not around right now. But you can send us an email and we'll get back to you, asap.

Sending
©2012 - 2020 Techwave.Asia All Rights Reserved.
or

Log in with your credentials

Forgot your details?