LIFESTYLE, TECHNOLOGY, Videos

৩য় প্রজন্মের স্মার্টফোন বা ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন, (Google Project ARA) The Modular Phone

কম্পিউটারের মতো যদি আপনার স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ নিজেই পরিবর্তন করা যেতো? যদি যখন যা প্রয়োজন সেরকম যন্ত্রাংশ আপগ্রেড করা যেতো? গুগল প্রোজেক্ট আরা নামক এক স্মার্টফোন প্রোজেক্ট এই স্বপ্ন সত্যি করতে চলেছে। আজকের পোস্টে আমি এই প্রোজেক্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করারা চেষ্টা করবো।

Google Project ARA

আমরা প্রতি বছর কেন ফোন পরিবর্তন করি? কেনোনা আগের বছরের ফোন থেকে এই বছরের ফোনের ক্যামেরা একটু বেশি ভালো হয় অথবা ডিসপ্লে আরো উন্নত হয় আর না হলে পারফর্মেন্স একটু বেশি ভালো থাকে। এক বছরের ফোন থেকে আরেক বছরের ফোনে কিন্তু সব যন্ত্রাংশ পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়ে উঠে না। আর এই কিছু পরিবর্তন থাকার কারণে আমাদের নতুন ফোন কিনতে হয় প্রতি বছর। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, প্রতি বছর আপনার ফোন আপগ্রেড করার চক্করে আপনার কত টাকা লোকশান হচ্ছে? প্রথমে আপনার দামী ফোনটি কমদামে বিক্রি করতে হয়, তারপর আরো অনেক টাকা লাগিয়ে তারপরে আরেকটি নতুন ফোন কিনতে পাওয়া যায়। যেখানে শুধু কিছু পরিবর্তন বাতিত প্রায় সকল বিষয় একই থাকে।

ভেবে দেখুন তো কেমন হতো যদি আজকের দিনের কোন লেটেস্ট ফোনের ক্যামেরা আপনার গত বছরের পুরাতন ফোনে লাগানো যেতো? দেখুন বাস্তবিক ভাবে তা সম্ভব নয়। এর জন্য আপনাকে লেটেস্ট ফোন কিনতেই হবে। কিন্তু গুগল প্রোজেক্ট আরা এই ধারনার উপরই কাজ করে যাচ্ছে।

গুগল প্রোজেক্ট আরা এমন একটি স্মার্টফোন ধারণা যেখানে ব্যবহারকারী তার নিজের স্মার্টফোন নিজেই ইচ্ছা মতো ডিজাইন করতে পারবে এবং কোন ফোন পরিবর্তন না করেই লেটেস্ট ফোন সর্বদা ব্যবহার করতে পারবে। এতে আপনার হাতের ফোনটি সহজেই পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়বে না।

যেভাবে একটি কম্পিউটার বানানোর সময় সেখানে মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র‍্যাম, স্টোরেজ, মনিটর, কীবোর্ড, মাউস ইত্যাদি পছন্দ মতো লাগানোর সুবিধা থাকে এবং প্রয়োজনে পরবর্তীতে এগুলো পরিবর্তন করারও সুবিধা থাকে তেমনি এই প্রোজেক্টের মাধ্যমে ইচ্ছা মতো স্মার্টফোন ডিজাইন করা যাবে। এই ফোনটিতে মূলত আলাদা আলদা মডিউল থাকবে। যেখানে বিভিন্ন মডিউলে যেকোনো যন্ত্রাংশ ফিট করা যাবে। মডিউল গুলো এক একটি ব্লকের মতো। ছোট বেলার কথা মনে আছে? তখন এরকম ব্লক দিয়ে যেকোনো খেলনা বানানো যেতো। একই ভাবে এই ফোনটিতে ব্লক গুলোকে বা মডিউল গুলোকে স্লাইড করে ফোনের সাথে চিপকে লাগানো যাবে এবং আপনি আপনার নিজের পছন্দ অনুসারে ফোন তৈরি করতে পারবেন।

আপনার ফোন কনফিগার করবেন আপনি নিজেই

গুগল প্রোজেক্ট আরার সবচাইতে বড় উদ্দেশ্য হলো নিজের পছন্দ অনুসারে ফোন তৈরি করার স্বাধীনতা প্রদান করা। মনে করুন আপনার এমন একটি ফোন প্রয়োজন যেখানে থাকবে একটি ভালো ক্যামেরা, ভালো ব্যাটারি লাইফ এবং একটি ভালো স্ক্রীন। এছাড়া আপনার ভালো ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকারও প্রয়োজন নেই, ভালো প্রসেসর থাকারও প্রয়োজন নেই, মনে করুন শুধু আপনার পছন্দের ফিচার প্রয়োজন।

তো এই অবস্থায় আপনি আপনার ফোনের বেশিরভার স্থান জুড়ে একটি বড় ব্যাটারি মডিউল লাগাতে পারবেন, তারপর এক ছোট জায়গায় ভালো একটি ক্যামেরা লাগিয়ে নেবেন এবং সামনের দিকে একটি ভালো স্ক্রীন লাগিয়ে নেবেন। ব্যাস হয়ে গেলো আপনার পছন্দের স্মার্টফোন। যদি আপনার ভালো প্রসেসর প্রয়োজন পড়ে তো ভালো প্রসেসর লাগিয়ে নিন, যদি ভালো ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দরকার পড়ে তো তা লাগিয়ে নিন। যদি ফোন থেকে ভালো মিউজিক এক্সপেরিএন্স করতে চান তবে সামনে বড় বড় দুটি স্পীকার লাগিয়ে নিন। মানে সবকিছুই হবে একমাত্র আপনার ইচ্ছা অনুসারে।

গুগল প্রোজেক্ট আরা তে একসাথে তিন প্রকারের ফোন বাজারে ছাড়া হবে। একটি ফোন ৫০ ডলারের আশেপাশে দাম হতে পারে। আরেকটি ১৫০-২০০ ডলার এবং আরেকটি ফোন ৩০০-৪০০ ডলারের আশেপাশে দাম হবে এবং এর মাধ্যমে একদম আলট্রা হাই-এন্ড কাজ করা সম্ভব হবে। প্রথমে এই ফোনটি ইউএসএ তে ছাড়া হবে টেস্ট করার জন্য। এবং পরে ডেভলপিং মার্কেট যেমন এশিয়ান মার্কেট গুলোতে ছাড়া হতে পারে।

চিন্তা করে দেখুন এই প্রযুক্তি আপনার অভিজ্ঞতা কীভাবে পরিবর্তন করতে চলেছে। এবং আপনি যে শুধু র‍্যাম, প্রসেসর, ক্যামেরা মডিউল লাগাতে পারবেন তা কিন্তু নয়। সে মডিউলটি যেকোনো কিছু হতে পারে। যেমন ধরুন লেজার লাইট। এখনো কোন ফোনে লেজার লাইট নেই, আপনি ব্যাস একটি লেজার লাইট মডিউল কিনে লাগিয়ে নিন, ব্যাস আপনার ফোনে লেজার লাইট ব্যবহার করতে পারবেন। এভাবে আপনার প্রয়োজন পড়লো রক্ত পরীক্ষা করার, তো ফোন থেকে একটি ব্লাড টেস্ট মডিউল বেড় করুন তারপরে সেখানে ব্লাড লাগিয়ে আপনার ফোনে আবার ঢুকিয়ে দিন, ব্যাস আপনার ফোন ব্লাড রেজাল্ট দিয়ে দেবে। বন্ধুরা গুগল প্রোজেক্ট আরা এর সম্ভবনা অসংখ্য। আপনি আপনার ফোন দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন এমন যেমন ইচ্ছা তেমন ফিচার আনলক করতে পারবেন শুধু মডিউল ব্যবহার করে।

শেষ কথা

আমার ধারনা যদি ভূল না হয় তবে এই গুগল আরা বদলে দেবে স্মার্টফোনের দুনিয়া, সত্যি বলতে গুগল প্রোজেক্ট আরা-ই হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্মার্টফোন। কেনোনা এতে থাকবে ইচ্ছা অনুসারে ফোন সাজানোর বিশেষ সুবিধা। আর তাছাড়া প্রতিবছর শুধু ক্যামেরা আর স্ক্রীনের জন্য কেন পুরো টাকা নতুন করে খরচ করবেন? আশা করছি এই প্রোজেক্ট সম্পর্কে আপনি অনেক কিছু জেনেছেন। এবং হতে পারে সামনের বছরের মধ্যে আপনার হাতে এমন একটি ফোন থাকতে পারে। প্রোজেক্ট আরা সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্ন থাকলে আপনি নিচে কমেন্ট করতে পারেন। আর পোস্টটি শেয়ার করতে অবশ্যই ভুলবেন না।

Related Posts

Leave a Reply